বোনের লড়াই দেখতে গ্যালারিতে ফুটবল অধিনায়ক, রিংয়ে হারলেও জয় আফরার সাহসে
জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে—তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং বড় বোনের একজন গর্বিত দর্শক হয়ে।
জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের ৫২ কেজি ওজনশ্রেণির ফাইনালে খেলেন আফঈদার বোন আফরা খন্দকার। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন অভিজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বক্সার জিনাত ফেরদৌস, যিনি শেষ পর্যন্ত ৫-০ ব্যবধানে জিতে নেন স্বর্ণ।
কিন্তু গ্যালারিতে বসে আফঈদার চোখে বোন আফরাই ছিলেন দিনের নায়ক। সাদা জার্সির নিচে বোনের জন্য হৃদয়ের উত্তাপ নিয়ে তিনি চিৎকার করে বলেন, “মার, আপু! সাবাশ!” তার বাবা-মাও পাশে ছিলেন, তিনজনেই গর্বে চোখ ভিজিয়েছিলেন আফরার সাহসী পারফরম্যান্সে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের তিন সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে বক্সিং স্টেডিয়ামে পৌঁছান আফঈদা। ফুটবলের কঠিন অনুশীলনের মাঝেও বোনের লড়াই দেখতে আসা যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা।
খেলা শেষে আফঈদা বলেন,
“উনি (জিনাত) অনেক অভিজ্ঞ, আন্তর্জাতিক লেভেলের প্রতিযোগী। আমার আপু তিন রাউন্ড লড়েছে, সেটাই বড় বিষয়। সে ভয় পায়নি, জোরে লড়েছে। হারলেও সে আমার কাছে জয়ী।”
জাতীয় ফুটবলে লড়াই করা এই অধিনায়ক নিজেই জানেন প্রতিযোগিতা কতটা কঠিন হতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো বুঝেছেন, পরাজয় নয়, সাহসিকতা বড় জয়।
এদিকে বক্সিং ফেডারেশন জানিয়েছে, আফরার মতো তরুণদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে রিং স্পোর্টসে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।


