সাফল্যের সঙ্গে মানবিকতার গল্প: ঋতুপর্ণাকে বাড়ি দেবে বিসিবি
২০২৪ সাল যেন ঋতুপর্ণা চাকমার ক্যারিয়ার ও জীবনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। জাতীয় নারী ফুটবল দলের এই তারকা শনিবার একদিনেই পেলেন দুটি বড় স্বীকৃতি—একদিকে প্রথম আলোর বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ পুরস্কার, অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার গ্রহণ করেন ঋতুপর্ণা। এরপর সন্ধ্যায় বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে জানানো হয়, রাঙামাটির প্রত্যন্ত এলাকায় থাকা তার জরাজীর্ণ বসতবাড়ির স্থলে একটি নতুন ঘর নির্মাণের দায়িত্ব নিচ্ছে বিসিবি।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অস্ট্রেলিয়া থেকে এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন।
ঋতুপর্ণা শুধু ফুটবল মাঠেই নন, জীবন সংগ্রামেও এক যোদ্ধা। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী এই খেলোয়াড় বাবাকে শৈশবে হারিয়েছেন, আর একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যুর পর মায়ের চিকিৎসা ও পরিবারের হাল ধরেছেন একাই। বাড়ির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
নারী ফুটবলে দেশের গর্ব হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের সাফল্য দুর্দান্ত। ২০২৪ সালে তার একমাত্র গোলে বাংলাদেশ জেতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, আর মিয়ানমারের বিপক্ষে তার জোড়া গোল দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে এশিয়া কাপের টিকিট।
বর্তমানে ভুটান লিগে খেলছেন ঋতুপর্ণা, সঙ্গে জাতীয় দলের আরও ১২ জন ফুটবলার। তারা অল্প সময়ের জন্য দেশে ফিরে অংশ নিয়েছেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। এ আসরে তিনটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে নারী দল—ঋতুপর্ণা বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ, তহুরা খাতুন বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদ।
বিসিবির এই মানবিক উদ্যোগ শুধু ঋতুপর্ণার জীবনে আলো ছড়াবে না, বরং দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে এক সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


