জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
বছরে অনার্স পাস করেন ১০ লাখ শিক্ষার্থী, ৪০ শতাংশই বেকার: উপাচার্য
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন থাকলেও এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্যে প্রকাশ পেল বাস্তব চিত্র। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর অনার্স পাস করা প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো কাজ পান না, অর্থাৎ তারা সরাসরি বেকারত্বের ফাঁদে পড়ে যান।
শনিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে ‘বাংলাদেশে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এই তথ্য প্রকাশ করেন।
ড. আমানুল্লাহ জানান,
“প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ লাখ শিক্ষার্থী অনার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে। এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ শিক্ষার্থী কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারছে না। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হয় প্রায় ৪ লাখ, আর ২ লাখ শিক্ষার্থী নিজেরাই ছোটখাটো উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।”
এই বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে উপাচার্য বলেন,
“আমরা শিক্ষায় পরিমাণগত উন্নতি করেছি ঠিকই, কিন্তু গুণগত উন্নতি হয়নি বলেই দেশের লাখ লাখ তরুণ উচ্চশিক্ষা নিয়েও বেকার। এটা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
উপাচার্য আমানুল্লাহ আরও বলেন,
“আমাদের দেশে ল্যাব আছে, শিক্ষক আছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ল্যাব ব্যবহার করছে না, প্রাকটিক্যাল হচ্ছে না। এটা শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটা নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিফলন। শিক্ষাকে গুণগত ও বাস্তবমুখী করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
তিনি বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রবণতা কমিয়ে, তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের তাগিদ দেন।
“একটি আধুনিক শিক্ষা কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি,” — বলেন অধ্যাপক আমানুল্লাহ।
সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন,
“দেশে ডিগ্রি পাস শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ১১ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বেকার। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শুধু ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয় — বাজার চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন,
“পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল কিংবা রূপপুর প্রকল্পে বিদেশি প্রকৌশলীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের প্রকৌশলীরা শুধুই সহায়ক ভূমিকায়। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।”
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ কে আজাদ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস, এবং অন্যান্য শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ইআরআই চেয়ারম্যান আ ন ম এহসানুল হক মিলন।


