পাঠ্যবই ছাপার কাজ বিদেশে দিলে এনসিটিবি অচলের হুমকি শ্রমিক উইংয়ের

শিক্ষা
পাঠ্যবই ছাপার কাজ বিদেশে দিলে এনসিটিবি অচলের হুমকি শ্রমিক উইংয়ের
নিউজ ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৫

পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ না হলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)–এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইং।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে এনসিটিবি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিবাদ জানান, যার মধ্যে ছিল— ‘বিদেশি ছাপা চাই না’, ‘শ্রমিক মরবে মানি না’, ‘বিদেশি কালো হাত ভেঙে দাও’।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান। তিনি বলেন, “দেশে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার, অথচ পাঠ্যবই ছাপার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিদেশে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটা মেনে নেওয়া হবে না।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নেতা মেহেদী হাসান বলেন, “দেশে কি দক্ষ জনবল নেই? বিদেশে কাজ দিয়ে আমাদের শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের দেশের শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন, আর সেই কাজই বিদেশিদের দেওয়া হবে—এটা হতে পারে না।”

শ্রমিক উইংয়ের মুখ্য সংগঠক শিপন বলেন, “পাঠ্যবই ছাপার সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মত নেওয়া হয়নি। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ না করলে এনসিটিবি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

প্রধান সমন্বয়কারী মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, “শ্রমিকদের বঞ্চনা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ তুলে দিয়ে রুটি-রুজির অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।”

তবে এনসিপি শ্রমিক উইংয়ের এই প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য এখনো কোনো আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি।

এনসিটিবির সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “কিছু গণমাধ্যমে যাচাই না করে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সত্য নয়। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বানের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।”

এনসিপির শ্রমিক উইং আরও জানিয়েছে, দাবি আদায় না হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেশে রাখার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ও শ্রমিকদের রক্ষা করতে হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে অবরোধ ও প্রতীকী ঘেরাও কর্মসূচির কথাও ভাবা হচ্ছে।

মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা ছাড়াও পুস্তক খাত সংশ্লিষ্ট অর্ধশতাধিক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।