নফল নামাজের সিজদায় নিজের ভাষায় দোয়া করা যাবে কি?
ফরজ নামাজ আদায়ের সময় সিজদার মধ্যে শুধু নির্ধারিত তাসবিহ পড়ার অনুমতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামী গবেষকগণ। ফরজ নামাজের সিজদায় নিজ ভাষায় দোয়া করা কিংবা কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়াও পড়া যাবে না। ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি অনুসারে, নামাজে শুধুমাত্র তাসবিহ, তাকবির এবং কোরআন তিলাওয়াতই অনুমোদিত।
সহিহ মুসলিম শরীফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“নামাজ মানুষের কথাবার্তার স্থান নয়, এটা তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্ধারিত।”
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, নামাজের ভেতরে দুনিয়াবি বা সাধারণ ভাষায় কথা বলা বা দোয়া করা ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ নয়। ফলে, কারও ইচ্ছামতো প্রার্থনা যেমন— “হে আল্লাহ, চাকরি দিন” কিংবা “বিয়ে হয়ে যাক” বা “এক লাখ টাকা দিন”— এমন দুনিয়াবি চাওয়া নামাজে উচ্চারণ করলে নামাজ ভেঙে যাবে।
তবে নফল নামাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। রাসুল (সা.) স্বয়ং নফল নামাজের সিজদায় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া করতেন।
উদাহরণস্বরূপ, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) সিজদায় দোয়া করতেন:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
(আল্লাহুম্মাগফিরলি জানবি কুল্লাহু দিককাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু)অর্থ: হে আল্লাহ, আমার সমস্ত গোনাহ— ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ, প্রথম হোক বা শেষ— ক্ষমা করে দিন।
(তাহাবি শরীফ)
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ এবং ৩ রাকাত ওয়াজিব ওয়েতর নামাজ ছাড়া বাকি সব নামাজকে নফল হিসেবে গণ্য করা হয়। নফল নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায়, তবে না পড়লে গুনাহ হয় না।
না, নামাজে কোরআন ও হাদিসের দোয়ার অনুবাদ পড়াও বৈধ নয়। এটি নামাজের মূল কাঠামোকে ব্যাহত করে এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
ফরজ নামাজের সিজদা কিংবা অন্য অংশে নিজের ভাষায় বা মনগড়া দোয়া করা ইসলামসম্মত নয়। এতে নামাজ বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে নফল নামাজের ক্ষেত্রে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া করার অনুমতি রয়েছে। সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদত নিশ্চিত করতে আলেমদের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


