ইসরায়েলকে বহিষ্কারের পথে হাঁটছে উয়েফা
ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বার্তা সংস্থা এপির এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উয়েফার নির্বাহী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য এ বিষয়ে ইতিবাচক। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে ইসরায়েলকে সরাতে পারে উয়েফা, যদিও তাদের নরওয়ে ও ইতালির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও রয়েছে।
ফিফার অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মার্কিন সরকারের চাপ সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ইসরায়েলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ ঠেকাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা ও ফিফা। এ প্রসঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস বলেছিলেন, গাজার বর্তমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকেও একইভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।
সম্প্রতি বিভিন্ন ইউরোপীয় ফুটবল ম্যাচে মানবিক সংকটের প্রতিবাদে ‘Stop Killing Children’, ‘Stop Genocide in Gaza’ মতো ব্যানার প্রদর্শিত হয়েছে। গ্রিসেও ইসরায়েলি দল মাকাবি তেল আবিবের বিপক্ষে সমর্থকরা প্রতিবাদ জানিয়ে ‘Stop Genocide’ ব্যানার তুলেছেন।
ইসরায়েলের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রী মিকি জোহর, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মোশে জুয়ারেস একযোগে কাজ করে উয়েফার এই প্রস্তাব আটকে দিতে চেষ্টা করছেন। এছাড়া কাতারসহ অনেক দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
যদি উয়েফার নির্বাহী কমিটি ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ পায়, তবে ইসরায়েলি ফুটবলের জন্য এটি হবে এক ঐতিহাসিক আঘাত, যার প্রভাব পড়বে ক্রীড়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বৃত্তে। আগামী সপ্তাহে জুরিখে ফিফার কাউন্সিল বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


