নাসার গ্লোবাল স্পেস চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চুয়েটের ‘টিম এসরো’

শিক্ষা
নাসার গ্লোবাল স্পেস চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চুয়েটের ‘টিম এসরো’
নিউজ ডেস্ক
১১ অক্টোবর ২০২৫

মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশ যুক্ত করল নতুন একটি মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা–র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত গ্লোবাল স্পেস চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ‘টিম এসরো’।

চুয়েটের মহাকাশ ও রোবোটিক্স ক্লাব অ্যান্ড্রোমেডা স্পেস অ্যান্ড রোবোটিকস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (এসরো) সদস্যদের নিয়ে গঠিত দলটি সিনিয়র/হাই স্কুল ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়ে ৫০০ এর মধ্যে ৪৯৯.৮ স্কোর অর্জন করে এই কৃতিত্ব অর্জন করে।

স্পেস টিমস অ্যাকাডেমি আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ১৫টিরও বেশি দেশের ৪০টির বেশি দল অংশ নেয়। টানা ৭ দিন ধরে চলা এই চ্যালেঞ্জে প্রতিযোগীরা অংশ নেয় প্ল্যানেটারি সায়েন্স, স্পেসক্রাফট ডিজাইন, অরবিটাল মেকানিক্স, রিমোট সেন্সিং, এন্ট্রি-ডিসেন্ট-ল্যান্ডিং, মহাকাশে বসবাসযোগ্যতা, এবং হিউম্যান ও রোবোটিক এক্সপ্লোরেশনের মতো নানা টেকনিক্যাল বিষয়ে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

‘টিম এসরো’ শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নয়, পাশাপাশি ‘বেস্ট টিম ভিডিও’ ক্যাটাগরিতেও প্রথম স্থান অর্জন করে।

বিজয়ী দলের সদস্যরা:

সজীব কুমার কর — যন্ত্রকৌশল বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ

শুভ আহমেদ — যন্ত্রকৌশল বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ

আদিল মুবাশশার — কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ, ৩য় বর্ষ

সুদীপ্ত বণিক — তড়িৎ কৌশল বিভাগ, ১ম বর্ষ

দলের সভাপতি সজীব কুমার কর বলেন,
“এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাটাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ১১০০ ডলারের রেজিস্ট্রেশন ফি জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমাদের শিক্ষক সজল স্যার ও জাহাঙ্গীর স্যারের মাধ্যমে এমআইটির বিজ্ঞানী মিজানুর চৌধুরী এবং তার প্রতিষ্ঠান স্টেমএক্স৩৬৫ সহায়তা করেন।”

তিনি আরও জানান, “পূজার ছুটি ও টার্ম ফাইনালের মাঝখানে সময় বের করে এই প্রকল্পে কাজ করেছি। কিন্তু টিমের একাগ্রতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সঠিক স্ট্র্যাটেজির কারণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।”

দলের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজর অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র বণিক বলেন,
“এই অর্জন শুধু চুয়েট নয়, বাংলাদেশের জন্য গর্বের। আমি নিজে দেখেছি তারা কীভাবে রাত জেগে, সীমিত রিসোর্সে, ভীষণ প্যাশন নিয়ে কাজ করেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়নদেরও তারা টেক্কা দিয়েছে, যা সহজ নয়।”

এই প্রতিযোগিতায় স্টেমএক্স৩৬৫ ও MIT-এর বিজ্ঞানী মিজানুর চৌধুরী ‘টিম এসরো’র পৃষ্ঠপোষকতা করেন। রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়াও নানাভাবে টিমটিকে সহায়তা দেন বলে জানা গেছে।