৩৮ বছর বয়সেও আগের মতোই দীপ্তি—মেসির নৈপুণ্যে বছর শেষ করল আর্জেন্টিনা
ফুটবল দুনিয়ার নক্ষত্র লিওনেল মেসি ৩৮ বছর বয়সেও যেন ফিরে পেয়েছেন তার ২৪-২৫ বছরের দুর্দান্ত ফর্ম। লুয়ান্ডার ‘১১ নভেম্বর স্টেডিয়াম’-এ অনুষ্ঠিত একটি স্মরণীয় ম্যাচে মেসি একাধারে গোল করলেন এবং গোল করালেন, ফলস্বরূপ আর্জেন্টিনা অ্যাঙ্গোলাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে জয়লাভ করলো। এটি ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ ছিল।
এটি ছিল অ্যাঙ্গোলার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত, কারণ তারা এ ম্যাচটির আয়োজন করেছিল পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাঙ্গোলা সরকার আর্জেন্টিনাকে মাঠে নামানোর জন্য প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
ম্যাচটি ছিল মেসির জন্যও এক বিশেষ উপলক্ষ, যেখানে তিনি তার অসামান্য ফুটবল প্রতিভার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। মাঠে উপস্থিত ছিলেন ৫০,০০০-এর বেশি দর্শক, যারা মেসির মাঠ ছাড়ার সময় দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানায়।
ফিফা র্যাংকিংয়ে অ্যাঙ্গোলা ৮৯তম স্থানে অবস্থান করলেও, আর্জেন্টিনা তাদের শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৩তম মিনিটে মেসির দুর্দান্ত থ্রু পাসে লওতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ লিড এনে দেন। এটি ছিল মেসির কাছ থেকে লওতারো মার্টিনেজের নবম অ্যাসিস্ট, যা তাকে হিগুয়াইন ও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট দেওয়ার রেকর্ডে পৌঁছে দেয়।
৮২তম মিনিটে, লওতারোর চতুর পাসে মেসি বাম পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন, এবং আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করে ২-০ ব্যবধানে জয়। এই গোলের মাধ্যমে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ১১৫তম গোল পূর্ণ করেন, যা তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক।
এ ম্যাচের পর মেসি ও আর্জেন্টিনার তারকা রদ্রিগো ডি পল যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবেন, যেখানে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে মেজর লীগ সকার (এমএলএস)-এর ইস্টার্ন কনফারেন্স সেমিফাইনালে এফসি সিনসিনাতির বিপক্ষে খেলা। এর মধ্য দিয়ে মেসির ব্যস্ততা কমছেও না, বরং এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার ফুটবল যাত্রা।


