গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত: জামায়াত আমির

রাজনীতি
গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত: জামায়াত আমির
নিউজ ডেস্ক
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে জন্ম নেওয়া ক্ষোভ ও আবেগ বোধগম্য, তবে তা কোনো পক্ষকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি গতকাল সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে সারা দেশে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছে, একই সঙ্গে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়েও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ক্ষোভকে পুঁজি করে যদি কোনো পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জামায়াত আমির গণমাধ্যমের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যেকোনো ন্যায়সংগত আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”

শেষে তিনি দেশের নাগরিক ও ছাত্র-জনতাকে ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “সংযম ও জাতীয় ঐক্যই বর্তমান সংকটময় সময়ে একমাত্র পথ। গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।”