আসন সমঝোতা ঘিরে ইসলামপন্থি জোটে টানাপোড়েন, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগ

রাজনীতি
আসন সমঝোতা ঘিরে ইসলামপন্থি জোটে টানাপোড়েন, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগ
নিউজ ডেস্ক
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপি শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা সম্পন্ন করার পর ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যেও নতুন জোট গঠনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)।

বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পাওয়া কয়েকটি দল এবং ক্ষুব্ধ নেতারা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইসলামপন্থি আট দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অন্তত ১০০ আসনের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কমপক্ষে ২৫টি আসন দাবি করছে। প্রত্যাশা পূরণ না হলে সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে কয়েকটি দল। তাদের প্রস্তাব—জামায়াত ১৫০ আসনে এবং বাকি দলগুলো মিলিয়ে ১৫০ আসনে প্রার্থী দেবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, তিন দফা জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এমন আসন ছাড়তে তারা প্রস্তুত যেখানে মিত্রদের জয়ের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যেখানে জামায়াত প্রার্থীর অবস্থান শক্তিশালী, সেখানে সমঝোতার সুযোগ সীমিত।

জামায়াত সূত্র বলছে, দলটি দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেবে এবং এনসিপি, এবি পার্টিসহ মিত্রদের জন্য মোট ৮০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বাসায় যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সেখানে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এনসিপির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পক্ষে অধিকাংশ সদস্য মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট আলোচনা কার্যত ভেঙে গেছে। শুরুতে ৩০টি আসনের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি মাত্র চারটি আসন দিতে চেয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গত মাসে এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করে।

তবে এই জোটের ভেতরেও মতভেদ স্পষ্ট হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের দল কোনো সমঝোতায় যাবে না।

জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এনসিপির জনসমর্থন থাকলেও সংগঠন দুর্বল হওয়ায় তাদের ভোট মাঠে কাজে লাগানো কঠিন। তবে এনসিপিকে পাশে পেলে নির্বাচনী রাজনীতিতে ‘জুলাইয়ের শক্তি’ যুক্ত হবে বলে তারা মনে করছে। ইসলামপন্থি দলগুলো একসঙ্গে থাকলে বিএনপির জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিপরীতে একটি শক্তিশালী আদর্শিক বয়ান দাঁড় করানো সম্ভব হবে—এমনটাই জামায়াতের মূল্যায়ন।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্ব বিএনপির কাছ থেকে আসন পেলেও দলের কয়েকজন নেতা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। জামায়াত জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যক্তিগত যোগাযোগে সমঝোতা হবে না।

এদিকে এলডিপিকে বিএনপি মাত্র একটি আসন ছাড়তে রাজি হওয়ায় দলটির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াত সূত্র বলছে, এলডিপির সঙ্গেও সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার সুযোগ থাকলেও আসন সমঝোতার রাজনীতিতে সবাই ঝুঁকে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই জোটের ভেতরে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।