এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি
সাধারণ সর্দি-জ্বর-কাশির চেনা উপসর্গ শীত বা বসন্তে অনেক সময় রূপ নেয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণে। এতে হাঁপানি বা সিওপিডি রোগীরা মারাত্মক ভোগেন, কারও ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে এক ডোজের ‘সর্বজনীন’ টিকা তৈরির পথে এগোচ্ছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি-এর একদল গবেষক এমন একটি টিকা উদ্ভাবন করেছেন, যা সব ধরনের কাশি, সর্দি ও ফ্লু-এর পাশাপাশি ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাটি নাক দিয়ে স্প্রে হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং অ্যালার্জি উপশমেও সহায়ক হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
গবেষকরা টিকাটিকে ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ বা সর্বজনীন টিকা হিসেবে উল্লেখ করছেন। ইতোমধ্যে এটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো শুরু হয়নি। ফলে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও একে সম্ভাবনাময় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রচলিত টিকা পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল অষ্টাদশ শতকে এডওয়ার্ড জেনার-এর হাত ধরে। সাধারণত প্রতিটি টিকা নির্দিষ্ট একটি রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে প্রস্তুত করে—যেমন হামের টিকা হাম প্রতিরোধ করে, জলবসন্তের টিকা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা দেয়।
কিন্তু নতুন এই টিকা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসকে লক্ষ্য না করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন অনুকরণ করে। নাকে স্প্রে করার পর এটি ফুসফুসে থাকা শ্বেত রক্তকণিকা—বিশেষ করে ম্যাক্রোফেজ—কে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখে। ফলে শরীরে ভাইরাস প্রবেশের চেষ্টা করলে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিকাটি প্রয়োগের পর ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকার সক্রিয়তা বেড়ে শ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশের হার ১০০ থেকে ১,০০০ গুণ পর্যন্ত কমেছে। এর সুরক্ষা প্রায় তিন মাস স্থায়ী ছিল।
গবেষকরা বলছেন, মানবদেহে সফল প্রমাণিত হলে এটি মৌসুমি ফ্লু ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে এক যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে।


