লেবাননে বিস্ফোরক লাগিয়ে গোটা গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিলো ইসরাইল
ইসরাইল-লেবানন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণের মাধ্যমে গ্রাম ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তিনটি ভিডিও যাচাই করে জানিয়েছে, সীমান্তসংলগ্ন তাইবেহ, নাকুরা ও দেইর সেরিয়ান গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা দেখা গেছে।
লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম আরও কয়েকটি সীমান্ত গ্রামে একই ধরনের বিস্ফোরণের খবর দিলেও সেগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ইসরাইলের জনবসতিতে নিরাপত্তা হুমকি কমানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সম্প্রতি গাজার রাফাহ ও বেইত হানুনে অনুসৃত কৌশলের অনুরূপভাবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে, যেখানে বিপুল সংখ্যক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। গাজায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কৌশলকে কিছু শিক্ষাবিদ ‘ডোমিসাইড’ বা পরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ধ্বংসের মাধ্যমে এলাকা বসবাসের অযোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এসব অভিযান মূলত হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনটি বেসামরিক স্থাপনার ভেতরে সুড়ঙ্গ ও সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে লিতানি নদী পর্যন্ত একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের ব্যাপক বিস্ফোরণ যদি সামরিক প্রয়োজন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


