ঘরে বসেই কিডনি পরীক্ষা করার সহজ উপায়

অন্যান্য
ঘরে বসেই কিডনি পরীক্ষা করার সহজ উপায়
নিউজ ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬

কিডনি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—এটি রক্ত পরিষ্কার করা, তরল ভারসাম্য রাখা এবং খনিজ নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ করে। তাই কিডনির কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রস্রাবের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা একটি সহজ উপায় হতে পারে। তবে এটি কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষার বিকল্প নয়।

কিডনি সারাক্ষণ রক্ত ফিল্টার করে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি প্রস্রাব হিসেবে বের করে দেয়। তাই প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে তা কখনও কখনও কিডনি রোগ, পানিশূন্যতা বা রক্তপ্রবাহের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ-এ ভুগছেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।

পরীক্ষার পদ্ধতি: ১০ ঘণ্টার নিয়ম

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ঘরে বসে কিডনি পরীক্ষা করার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একটি পরিষ্কার পরিমাপক পাত্র এবং কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। নিচে পদ্ধতিটি দেওয়া হলো:

১. দিনের এমন একটি ১০ ঘণ্টা সময় বেছে নিন যখন আপনি কোনো বিরতি ছাড়াই প্রস্রাব সংগ্রহ ও পরিমাপ করতে পারবেন।

২. প্রস্রাব সংগ্রহের জন্য একটি পরিষ্কার এবং পরিমাপ নির্দেশক চিহ্ন দেওয়া ১ লিটারের বোতল বা পাত্র ব্যবহার করুন।

৩. ১০ ঘণ্টা শেষে মোট প্রস্রাবের পরিমাণ কত হলো তা নোট করুন এবং আপনার শরীরের ওজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা মিলিয়ে দেখুন।

৪. যারা ঝুঁকিতে আছেন, তারা মাসে অন্তত এক বা দুইবার এই পরীক্ষাটি করতে পারেন।

হিসাব করবেন যেভাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ০.৫ থেকে ১ মিলিলিটারপ্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক।

উদাহরণস্বরূপ: আপনার ওজন যদি ৬০ কেজি হয়, তবে আপনার প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলি প্রস্রাব হওয়া উচিত। সেই হিসাবে ১০ ঘণ্টায় আপনার মোট প্রস্রাব হওয়ার কথা ৩০০ থেকে ৬০০ মিলি।

যদি প্রস্রাবের পরিমাণ নিয়মিতভাবে এই রেঞ্জের মধ্যে থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনার কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

কখন সতর্ক হতে হবে?

যদি প্রস্রাবের পরিমাণ প্রত্যাশিত সীমার চেয়ে অনেক কম হয়, তবে তা কিডনির অকার্যকারিতা, পানিশূন্যতা বা কিডনিতে রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। প্রস্রাবের পরিমাণের পাশাপাশি নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

১. পা, গোড়ালি বা মুখে ফোলা ভাব।

২. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।

৩. প্রস্রাবে ফেনা হওয়া বা প্রস্রাবের রঙ অনেক গাঢ় হওয়া।

৪. বমি বমি ভাব বা মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া।

সতর্কবার্তা

মনে রাখবেন, ঘরে বসে প্রস্রাব পরিমাপ করা কিডনি স্বাস্থ্যের একটি প্রাথমিক ধারণা মাত্র। এটি কখনোই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যেমন সিরাম ক্রিয়েটিনিন বা ইজিএফআর (eGFR)-এর বিকল্প নয়। যদি আপনি প্রস্রাবের পরিমাণে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে পূর্ণাঙ্গ রোগ নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কিডনি রোগের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত চিকিৎসায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

 

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া