শিশুর হাম হলে বুঝবেন কীভাবে
বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে আবারও হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসচেতনতাও এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে।
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত একজন শিশু থেকে প্রায় ১২–১৮ জন অটিকাপ্রাপ্ত শিশু সংক্রমিত হতে পারে। ফলে পরিবার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
প্রধান লক্ষণ
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো—
- উচ্চ জ্বর, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots)
- মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লাল ফুসকুড়ি
সম্ভাব্য জটিলতা
হামকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন—
- নিউমোনিয়া
- তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
- কানের সংক্রমণ
- এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে প্রদাহ)
- দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের কারণে শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা রাতকানা এমনকি স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে।
ঝুঁকিতে কারা বেশি?
চিকিৎসকদের মতে, জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত বা অপুষ্ট শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ—
- নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি
- হার্ট ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ পড়ে
- অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে
- সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে
প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
বাংলাদেশের Expanded Programme on Immunization (EPI) অনুযায়ী—
- ৯ মাসে প্রথম MR টিকা
- ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ
দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করলে প্রায় ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায় বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
হামের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তবে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়—
- ভিটামিন A
- জ্বর নিয়ন্ত্রণ (প্যারাসিটামল)
- ORS/স্যালাইন
- প্রয়োজন হলে অ্যান্টিবায়োটিক
- অক্সিজেন ও হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা
কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে—
- শ্বাসকষ্ট
- খিঁচুনি
- অতিরিক্ত নিস্তেজতা
- খেতে না পারা
- তীব্র ডায়রিয়া বা ডিহাইড্রেশন
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ ও সচেতনতা এই রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে অবহেলা জীবনঘাতী হতে পারে।


