বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে কী করবেন
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের পর শুরু হওয়া স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়টি বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ে প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাতে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
ঝড়বৃষ্টির সময় জীবন রক্ষায় কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিরাপদ থাকতে যেসব বিষয় অনুসরণ করা জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো—
ঝড়ের সময় খোলা বা উঁচু স্থানে অবস্থান করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। সম্ভব হলে পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ। টিনের ছাউনি বা অস্থায়ী আশ্রয়স্থল এড়িয়ে চলা উচিত।
উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও খোলা মাঠে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এসব স্থানে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। যাত্রীছাউনি বা একাকী বড় গাছের নিচেও আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক।
ঘরের ভেতরে থাকলেও জানালার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং জানালা বন্ধ রাখতে হবে। ধাতব বস্তু যেমন কল, রেলিং বা পাইপ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ঝড়ের সময় টিভি, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে আগেই প্লাগ খুলে রাখা উচিত।
গাড়ির ভেতরে থাকলেও ধাতব অংশ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ স্থানে পার্ক করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাবারের বা শুকনো জুতা পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধানক্ষেত, খোলা মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকলে দ্রুত নিচু হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে।
পুকুর বা জলাবদ্ধ এলাকায় থাকা অবস্থায় দ্রুত সরে আসতে হবে, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।
এছাড়া বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, তাই দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সতর্কতা মেনে চললে বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি বাংলা


