স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর করণীয়
জীবন-মৃত্যু মানুষের জন্য অনিবার্য বাস্তবতা। পবিত্র কুরআন-এ বলা হয়েছে, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং পরকালে তার কর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)। স্বামীর মৃত্যু একজন নারীর জীবনে গভীর শোকের সময়—এ সময়ে ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট বিধান ও করণীয় নির্ধারিত আছে।
ইদ্দত পালন
স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্য ইদ্দত পালন করা ফরজ। পবিত্র কুরআন-এর সূরা বাকারা (২:২৩৪) অনুযায়ী, এই সময়কাল চার মাস দশ দিন।
- যদি স্ত্রী গর্ভবতী হন, তবে সন্তানের জন্ম পর্যন্ত ইদ্দত চলবে
- এই সময়কে “ইদ্দাতুল অফাত” বলা হয়
ইদ্দতের উদ্দেশ্য:
- সম্ভাব্য গর্ভধারণ নির্ণয়
- দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতি সম্মান
- মানসিক স্থিতি ফিরে পাওয়া
ইদ্দতের সময় অবস্থান
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, স্ত্রীকে ইদ্দতকাল স্বামীর ঘরেই অবস্থান করতে হয়।
- অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া নিরুৎসাহিত
- প্রয়োজন হলে (চিকিৎসা, নিরাপত্তা, আদালত) বাইরে যাওয়া অনুমোদিত
এই বিধান নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রণীত।
শোক পালন
হাদিস অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবেন।
এ সময়ে করণীয়:
- সাজসজ্জা, প্রসাধনী ও অলংকার পরিহার
- সুগন্ধি ব্যবহার না করা
- রঙিন বা আকর্ষণীয় পোশাক এড়িয়ে চলা
এটি কোনো শাস্তি নয়, বরং সম্মানজনক শোকের সময়।
ইবাদত ও দোয়া
এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো:
- স্বামীর জন্য দোয়া করা
- নেক আমল করা
- দান-সদকা করা
- কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব পৌঁছানো
পবিত্র কুরআন-এ দোয়া শেখানো হয়েছে (সূরা হাশর: ১০):
“হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের এবং আমাদের পূর্বসূরিদের ক্ষমা করুন, যারা ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে।”


