কোটি টাকা ব্যয়েও কমেনি বরিশালের জলাবদ্ধতা
বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বাস্তবে দুর্ভোগ কমেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে নগরীর বগুড়া রোড, আমানতগঞ্জ, সদর রোড, মুন্সী গ্যারেজ এলাকা ও নবগ্রাম রোডের বিভিন্ন অংশ হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরুতে নগরীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন ও পরিষ্কার করতে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই খালগুলো আবার ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকেনি। ফলে আগের মতোই জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
নগরীর নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রসুলপুর, পলাশপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বৃষ্টির কয়েকদিন পরও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে।
নবগ্রাম রোডের বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সড়ক পানির নিচে চলে যায়, ফলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, অটোরিকশা চালকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, কারণ পানি ঢুকে যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, খাল পরিষ্কার করা হলেও অলিগলির ড্রেন ও নালার উন্নয়ন যথেষ্ট হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এদিকে চলতি অর্থবছরে পরিচ্ছন্নতা খাতে সীমিত বাজেট বরাদ্দ থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে ২৯টি খাল পুনঃখননের জন্য প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পরিকল্পনার ঘাটতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাল খনন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ছাড়া বরিশালের জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়।

