বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ, সেপটিক ট্যাংকে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

দেশজুড়ে
বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ, সেপটিক ট্যাংকে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

বরগুনার আমতলীতে নবনির্মিত একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (০৩ জুন) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার একে স্কুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শ্রমিকরা হলেন উপজেলার হলদিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) এবং বেতমোর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে জাফর হাওলাদার (৫০)।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলী একে স্কুল এলাকায় একটি নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। বুধবার সকালে ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে সেখানে যান শ্রমিক জাহিদুল হাওলাদার ও জাফর হাওলাদার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে জাহিদুল ট্যাংকের ভেতরে নামার কিছুক্ষণ পর চিৎকার শুরু করেন। বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাঁকে উদ্ধার করতে জাফর হাওলাদারও ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আবু হানিফ বলেন, “সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্যাংকের মুখ ভেঙে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার করার সময়ই তাঁরা মৃত ছিলেন।”
উদ্ধার করা দুই শ্রমিককে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।”
নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন বলেন, “মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, আমতলীতে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক মৃত্যুর এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।