শপথ ভঙ্গ করলে কী করতে হবে? ইসলামে কাফ্ফারা আদায়ের বিধান

ধর্ম
শপথ ভঙ্গ করলে কী করতে হবে? ইসলামে কাফ্ফারা আদায়ের বিধান
নিউজ ডেস্ক
৭ জুন ২০২৬

ইসলামে শপথ বা কসম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘন ঘন শপথ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অতিরিক্ত শপথকারীদের অনুসরণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কেউ বৈধ কোনো বিষয়ে শপথ করার পর তা ভঙ্গ করলে তাকে কাফ্ফারা আদায় করতে হয়। এটি বাধ্যতামূলক বিধান। কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, শপথ ভঙ্গের জন্য নির্ধারিত কাফ্ফারা রয়েছে এবং তা আদায় না করলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে।

শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারা কী?

পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাফ্ফারার তিনটি ধাপ রয়েছে—

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

  • ১০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো।
  • অথবা ১০ জন দরিদ্রকে পোশাক প্রদান করা।
  • এ দুটির কোনোটিই করার সামর্থ্য না থাকলে ধারাবাহিক তিন দিন রোজা রাখা।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, প্রথম দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আর্থিকভাবে অক্ষম হলে তবেই রোজার বিধান প্রযোজ্য হবে।

কাফ্ফারা আদায়ের নিয়ম

ফিকহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাফ্ফারার অর্থ বা খাদ্যসামগ্রী ১০ জন ভিন্ন ভিন্ন দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করা উত্তম। যদি পুরো অর্থ একজন ব্যক্তিকে দিতে চান, তাহলে তা একদিনে না দিয়ে পৃথকভাবে ১০ দিনের মধ্যে দিতে হবে।

অর্থাৎ, ১০ জনকে একদিনেই দেওয়া বৈধ হলেও একজনকে পুরো কাফ্ফারা একবারে দিয়ে দায়িত্ব শেষ হবে না। সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের অংশ আলাদাভাবে প্রদান করতে হবে।

শপথে সংযমের পরামর্শ

ইসলামে অপ্রয়োজনে কসম করা অপছন্দনীয়। তাই কথায় কথায় শপথ না করে সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা এবং শপথ করলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত। আর কোনো কারণে শপথ ভঙ্গ হলে শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কাফ্ফারা আদায় করা প্রয়োজন।