বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবেই দেখছে চীন: শি জিনপিং
দুই নেতা যৌথভাবে নতুন যুগে “চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়” গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
শি বলেন, চীন সবসময় চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের নীতিতে অটল থেকেছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন–বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনায় চীন তার প্রতিশ্রুতি থেকে কখনো বিচ্যুত হবে না এবং সবসময় বাংলাদেশের একজন নির্ভরযোগ্য ভালো বন্ধু, প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “এ বছর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিপিসি চীনা জনগণকে দারিদ্র্য ও দুর্বলতা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে চীনা আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিয়েছে। এর শক্তি নিহিত আছে স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতায়, এবং জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভবিষ্যৎকে নিজেদের হাতেই দৃঢ়ভাবে ধরে রাখার মধ্যে।”
শি বলেন, চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষাকে সমর্থন করে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।
চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে তাদের শাসন কার্যক্রমে সমর্থন দেয় এবং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে সুশৃঙ্খল সহযোগিতার পরিকল্পনা করতে এবং সবুজ ও কম-কার্বন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে আগ্রহী।
শি বলেন, চীন বাংলাদেশকে স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়েও বিনিময় বাড়াতে আগ্রহী, এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, চীন জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে প্রস্তুত, যাতে সমান ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুক বিশ্ব এবং সর্বজনীনভাবে উপকারী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে এগিয়ে নেওয়া যায়, এবং দুই দেশের বৈধ অধিকার ও অভিন্ন স্বার্থ এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ আরও ভালোভাবে রক্ষা করা যায়।
সিপিসি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ও আস্থাভাজন অংশীদার, এবং চীনের আধুনিকায়ন বাংলাদেশের জন্য শেখার একটি উদাহরণ।
বাংলাদেশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় জোরদার করতে, বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য, সংযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা ও বিনিময় বৃদ্ধি করতে চায়, যাতে বাংলাদেশ আধুনিকায়ন অর্জন করতে পারে, তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলে, তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, “তাইওয়ান স্বাধীনতা”-এর যেকোনো রূপের বিরোধিতা করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্ব দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
তিনি বলেন, মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও সমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে চীনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে প্রস্তুত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল ও জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে।
সূত্র: সিনহুয়া


