রক্তদানে মানবতার জয়: আলমডাঙ্গায় ব্লাড সৈনিক ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
oplus_2
রক্ত দানে নেই ভয়, করবো এবার মানব জয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড সৈনিক ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আলমডাঙ্গার লাইলা কনভেনশন হলে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান আনোয়ারুল ইসলামপর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নিগার সিদ্দিক কলেজের প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল আমিন হোসেন, ব্লাড সৈনিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহরিয়ার মোহাম্মদ আকাশ, সহকারী পরিচালক আল আমিন ইসলাম সাগর, সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আজমাইল হোসেন,রক্তদান সংগঠন চুয়াডাঙ্গা বাঁধনের সভাপতি রাসেল আহম্মেদ এবং জন্মভূমি মেহেরপুর মানব কল্যাণ সংঘ ও আনন্দবাস ব্লাড ব্যাংক মানবকল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন,রক্তের অভাবে যেন আর একটি প্রাণও ঝরে না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আলমডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্লাড সৈনিকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন, রক্তদানের ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাত-পাতে কোনো বিভেদ নেই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষের পাশে সমানভাবে দাঁড়াচ্ছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
বক্তারা জানান, ব্লাড সৈনিকরা শুধু রক্তদানেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের ব্যাগ সংগ্রহ, রোগীদের স্বজনদের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তাও প্রদানও করে থাকে। প্রতিষ্ঠার এক বছরে সংগঠনটি প্রায় ৫০০ জন রোগীকে রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করেছে।
সংগঠনের পরিচালক শাহরিয়ার মোহাম্মদ আকাশ বলেন,“আগামী দিনেও রক্তদান কার্যক্রমের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের কল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে ব্লাড সৈনিক ফাউন্ডেশন।”
এ সময় চুয়াডাঙ্গা বাঁধনের সভাপতি রাসেল আহম্মেদ জানান, বাঁধনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষকে রক্তদান সেবা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
আলোচনা সভা শেষে , স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মাননা প্রদান এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। মানবসেবার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও রক্তদান ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


