গুলশান সোসাইটিকে ঘিরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি

দেশজুড়ে
গুলশান সোসাইটিকে ঘিরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি
১২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশানের নাগরিকদের সংগঠন গুলশান সোসাইটিকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক অস্বচ্ছতা, পরিচালনাগত একচ্ছত্রতা এবং নাগরিক হয়রানির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সোসাইটির জনবল ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গুলশান সোসাইটির কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে একটি সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামোর মতো পরিচালিত হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, সংগঠনটি নিজস্ব নিয়ম ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এমন কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে “সরকারের মধ্যে আরেক সরকার” ধরনের ধারণার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া গুলশান এলাকায় প্রায় ১২ হাজার পরিবারের বসবাস থাকলেও বিভিন্ন সড়ক ও প্রবেশপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত রাখার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী কিছু সড়ক কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সোসাইটির প্রায় ৩০০ জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার নামে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক বা বিতর্কিত আচরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্যাডেলচালিত রিকশার নম্বর প্লেট প্রদানকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য, বিভিন্ন ফান্ড সংগ্রহ, ব্যয় এবং হিসাব প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, গুলশান এলাকাকে কেন্দ্র করে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট জালিয়াতি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য এবং বড় অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির একাধিক মামলা বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। এসব মামলায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার নামও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও সেগুলো বিচারাধীন বা তদন্তাধীন বিষয়।

তবে গুলশান সোসাইটির ক্ষেত্রে প্রধান অভিযোগগুলো সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্রতা, নাগরিক সেবায় জবাবদিহিতার অভাব এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ঘিরেই সীমাবদ্ধ।

এদিকে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুলশান সোসাইটির বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, “গত ২০ বছরে নগরায়ণের নামে নরকায়ণ হয়েছে। ঢাকা শহর শেষ।” তাঁর এই মন্তব্য রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গুলশান সোসাইটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।