ইসলাম কি দত্তক নেওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে?
অনেকের মধ্যেই ধারণা রয়েছে, ইসলামে দত্তক নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি এতটা সরল নয়। ইসলাম মূলত এমন দত্তক প্রথাকে অনুমোদন দেয় না, যেখানে কোনো শিশুর প্রকৃত বংশপরিচয় পরিবর্তন করে তাকে দত্তক গ্রহণকারী পরিবারের জৈবিক সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। তবে কোনো এতিম বা অসহায় শিশুর লালন-পালন, ভরণ-পোষণ ও শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণকে ইসলাম উৎসাহিত করেছে।
ইসলামী শরিয়তের আলোচনায় দত্তককে সাধারণভাবে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। প্রথমত, কোনো শিশুকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং তার প্রকৃত পিতৃপরিচয় পরিবর্তন করা। দ্বিতীয়ত, শিশুটির আসল বংশপরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে তাকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতো লালন-পালন করা।
কোরআনের সূরা আহযাবে আল্লাহ তাআলা বলেন, দত্তকপুত্রকে প্রকৃত পুত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত পিতার নামেই ডাকতে হবে। যদি পিতার পরিচয় জানা না থাকে, তবে তারা ধর্মীয় ভাই বা বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবে। ইসলামী আইনবিদদের মতে, এই নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো বংশপরিচয় সংরক্ষণ করা।
এ কারণে ইসলাম শিশুর পরিচয় পরিবর্তনকে অনুমোদন না দিলেও অসহায় শিশুদের আশ্রয় ও প্রতিপালনের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছে। বরং এতিমদের প্রতি সদাচরণ ও তাদের দেখাশোনার বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে বহুবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, দত্তক নেওয়া সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের জৈবিক সন্তানের মতো মাহরাম বা উত্তরাধিকারী হয়ে যায় না। অর্থাৎ, উত্তরাধিকার, মাহরাম সম্পর্ক ও বিবাহসংক্রান্ত বিধান প্রকৃত রক্তসম্পর্ক বা শরিয়তসম্মত অন্যান্য সম্পর্কের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। কোনো শিশু যদি জীবনের প্রথম দুই বছরের মধ্যে শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কোনো নারীর দুধ পান করে, তাহলে দুধ-সম্পর্ক (রিদা’আত) প্রতিষ্ঠিত হয়। সে ক্ষেত্রে ওই শিশুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মাহরাম সম্পর্কের বিধান কার্যকর হয়।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, তাই ‘ইসলামে দত্তক নেই’—এমন বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং বলা যায়, ইসলাম বংশপরিচয় পরিবর্তনকে নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু এতিম ও অসহায় শিশুর লালন-পালন এবং তাদের দায়িত্ব গ্রহণকে উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের মানবিক কাজের জন্য মহান আল্লাহ উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


