যোগ্যতা-গ্রহণযোগ্যতাই অগ্রাধিকার
নতুন রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে কঠোর বিএনপি, প্রাধান্যে থাকছে যেসব বিষয়
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা জানিয়েছে সরকার। এদিকে বিএনপি বলছে, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অরাজনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে চায় বিএনপি।
দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক সংকট থেকে শিক্ষা নিয়েই এই অবস্থান। তাদের মূল্যায়ন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাবে সংকট কার্যকরভাবে সামাল দিতে পারেননি। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় দলটি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত থাকবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় ফোরামেই সিদ্ধান্ত হবে। তিনি জানান, দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে রয়েছে এবং তিনি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকেই মনোনয়ন দেবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বিতর্কিত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
দ্রুত নির্বাচন চায় বিএনপি
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দলটি ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনায় রেখে দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পক্ষে তারা।
এদিকে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত বিশেষ অধিবেশন ডেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না সরকার।
প্রাধান্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিবের ভাষ্য, এবার দলটি রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ ও ক্যারিয়ারসমৃদ্ধ একজন রাজনীতিবিদকে দেখতে চায়। তার মতে, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় মাঠের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। এক-এগারোর অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না বিএনপি।
আলোচনায় যাদের নাম
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রবীণ নেত্রী সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সাবেক আমলার নামও আলোচনায় এলেও তাদের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, দল অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে। তবে কে মনোনয়ন পাবেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তার মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতাদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্ভাব্যদের প্রোফাইল
বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যতা, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন দিকের প্রোফাইল ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনার পর দলীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।


