ওমরায় মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা কেন জরুরি?
হজের পাশাপাশি ওমরাহ পালনের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে সায়ি শেষে মাথার চুল মুণ্ডন বা ছাঁটা। এই আমল সম্পন্ন করার মাধ্যমেই ইহরামের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হজ ও ওমরাহ পালনের সময় পুরুষরা মাথা সম্পূর্ণ মুণ্ডন করতে পারেন অথবা চুল ছোট করে ছাঁটতে পারেন। তবে নারীদের জন্য মাথা মুণ্ডন বৈধ নয়; তারা শুধু নির্ধারিত পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।
হজের ক্ষেত্রে কোরবানি ও অন্যান্য নির্ধারিত আমল শেষে মিনায় মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা হয়। আর ওমরাহ পালনের সময় তাওয়াফ ও সায়ি শেষ করার পর চুল মুণ্ডন বা ছাঁটার মাধ্যমে ইহরাম থেকে বের হতে হয়।
পুরুষদের জন্য মাথা মুণ্ডন ও চুল ছাঁটা—দুই পদ্ধতিই বৈধ। তবে মাথা সম্পূর্ণ মুণ্ডন করাকে অধিক ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। অন্যদিকে তামাত্তু হজ পালনকারীরা ওমরাহ শেষে চুল ছোট করে ছাঁটতে পারেন, যাতে হজের সময় মুণ্ডনের জন্য কিছু চুল অবশিষ্ট থাকে।
যাদের মাথায় চুল নেই, তাদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বিধান রয়েছে। তারা মাথার ওপর ব্লেড বা চুল কাটার যন্ত্র ঘুরিয়ে নেবেন। ইসলামি ফিকহের কিতাবে এটিকে প্রয়োজনীয় আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাথা মুণ্ডনের ক্ষেত্রেও সুন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। ডান দিক থেকে মুণ্ডন শুরু করা সুন্নত। হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রথমে মাথার ডান পাশ এবং পরে বাম পাশ মুণ্ডন করিয়েছিলেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ ও কোরবানি সম্পন্ন করার পর নাপিতকে প্রথমে মাথার ডান দিক মুণ্ডন করতে দেন। এরপর বাম দিক মুণ্ডন করান এবং কাটা চুল সাহাবিদের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ১৩০৫-১৩০৭)
নারীদের ক্ষেত্রে বিধান আলাদা। হজ বা ওমরাহ শেষে নারীরা মাথার চুলের অল্প অংশ ছাঁটবেন। তাদের মাথা মুণ্ডন করার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নারীদের জন্য মাথা মুণ্ডন নয়; তাদের জন্য রয়েছে চুল ছাঁটা।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৯৮৪)
সুতরাং, ওমরাহ পালন শেষে পুরুষদের জন্য মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং নারীদের জন্য চুল ছাঁটা ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এসব আমল যথাযথভাবে পালন করেই ওমরাহ সম্পন্ন করতে হয়।


