সরকারের একার পক্ষে মানবপাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়

জাতীয়
সরকারের একার পক্ষে মানবপাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়
৫ আগস্ট ২০২৬

মানবপাচার প্রতিরোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে মানবপাচারের মতো সংঘবদ্ধ ও বহুমাত্রিক অপরাধ পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয়। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানবপাচার থেকে উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে তিনি আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচার শুধু একজন মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নেয় না; এটি সমাজের মৌলিক কাঠামো এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপরও গভীর আঘাত হানে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদারে কাজ করছে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের কারণে মানুষের যে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়, তা কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এই অপরাধের ভয়াবহ মানবিক চিত্র তুলে ধরে।

‘লিসেন’ সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি এটি দেশের প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ।

তিনি বলেন, গ্রন্থটিতে মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের করুণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা সমাজে মানবপাচার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করবে এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে জাতীয় অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

মানবপাচারের নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতারণামূলক কাজে, সাইবার প্রতারণা এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে।

তিনি জানান, এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক একটি বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত মানবপাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।