১৬ বছরে ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে

জাতীয়
১৬ বছরে ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৬

গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একই সময়ে ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও বঞ্চনার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগ ও দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসনামলে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুম হয়েছেন। তাদের স্বজনদের অনেকে আজও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘৬০ লাখের বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছিল। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজ পালনে থাকা মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে।’

সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগের পাশে সরকার থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশে আবারও হিংস্র মৌলবাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল, যার অবসান ঘটে ৫ আগস্ট। ইতিহাস প্রমাণ করে, বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আরও বলেন, দেশে এখনো প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

আয়োজক বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে দিনব্যাপী এই উৎসবে শোভাযাত্রা, নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ‘জুলাইয়ের পঙক্তিমালা’ শীর্ষক কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, শহীদদের স্মরণে দলীয় ও একক আবৃত্তি এবং পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজন ছিল।