১০ মিনিটেই কমল ৪৪ হাজার দর্শক! শেখ হাসিনার লাইভে আসলে কী ঘটেছিল?
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে পূর্বপ্রচারণায় তাকে ভিডিওতে দেখা যাবে বলে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি অডিও সংযোগে বক্তব্য দেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের আগে বিভিন্ন মাধ্যমে শেখ হাসিনার ভিডিও উপস্থিতির কথা প্রচার হলেও বাস্তবে তিনি কেবল অডিওর মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। কেন ভিডিও সংযোগ ব্যবহার করা হয়নি—এ বিষয়ে আয়োজক কিংবা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আবারও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তবে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট তারিখ, প্রক্রিয়া কিংবা আইনি কৌশল সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য থেকেও বিরত থাকেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওপর ছেড়ে দেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পৃথক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। বিবিসি বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি শুভজ্যোতি ঘোষ তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, দুই বছর পর এটি ছিল শেখ হাসিনার প্রথম সরাসরি লাইভ সংবাদমাধ্যম-সংলাপ। যদিও ভিডিও উপস্থিতি না থাকায় সেটিকে প্রচলিত অর্থে পূর্ণাঙ্গ সংবাদ সম্মেলন বলা কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও সম্ভাব্য সময়সূচি, সরকারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা প্রত্যাবর্তনের বাস্তব পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেননি। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের (রিকনসিলিয়েশন) প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দিল্লিভিত্তিক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভারত বা বাংলাদেশের সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক কূটনীতিক বিনা সিক্রিও উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের একটি রেকর্ড করা বার্তাও প্রচার করা হয়।


