খতমে নবুওয়াত অস্বীকারকারীরা মুসলমান নয়: দেওবন্দের মুহতামিম

অন্যান্য
খতমে নবুওয়াত অস্বীকারকারীরা মুসলমান নয়: দেওবন্দের মুহতামিম
৭ আগস্ট ২০২৬

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম হযরত মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী (দা.বা.) বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল—এ বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক আকীদার অন্যতম ভিত্তি। কেউ তাঁর চূড়ান্ত নবুওয়াত অস্বীকার করলে বা তাঁর পরে অন্য কাউকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করলে সে ইসলামের মৌলিক আকীদা থেকে বিচ্যুত হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আফতাবনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত খতমে নবুওয়ত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির নায়েবে আমির ও আফতাবনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা ফয়সল ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেন, পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে রাসুলে কারিম (সা.)-এর চূড়ান্ত নবুওয়াতে বিশ্বাস মুসলমানের ঈমানি আকীদার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বিশ্বাস সংরক্ষণে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কোরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ শিক্ষা এবং আকাবিরে দেওবন্দের মানহাজের আলোকে মুসলমানদের ঈমান-আকীদা সংরক্ষণ করা জরুরি। কাদিয়ানি মতবাদসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতাদর্শের অপপ্রচার মোকাবিলায় জ্ঞান, দাওয়াত, প্রজ্ঞা ও যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনার মাধ্যমে সমাজে সহিহ আকীদার প্রসার ঘটাতে হবে।

দেওবন্দের মুহতামিম আরও বলেন, আকাবিরে দেওবন্দ সবসময় কোরআন, সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় মুসলমানদের ঈমান-আকীদা রক্ষা, দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাস সংরক্ষণ এবং বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

তিনি সর্বস্তরের আলেম-উলামা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসলমানদের কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিশুদ্ধ ইসলামী আকীদা ও আদর্শের ওপর অটল থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কনফারেন্সে আরও বক্তব্য দেন দেওবন্দ মাদ্রাসার শুরা সদস্য মাওলানা হাসান মাহমুদ রাজস্থানী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জামিয়া এমদাদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদ, মাওলানা ড. জহিরুল ইসলাম, মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজীসহ খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন আলেম-উলামা।