ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত
রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অতীতের ঘটনা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই সংগঠনের নেতারা।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন উপকমিশনার (ডিসি), মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংঘাত এড়িয়ে সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত
বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।
এস এম ফরহাদ বলেন, অতীতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সামনে কীভাবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, সেটিই বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে সব পক্ষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি না হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাত থেকে সরে আসার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়েও আলোচনা
বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনায় ঢাকা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও উঠে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলো মাদরাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিমের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতাকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সেই ভিন্নতা যেন সংঘাত সৃষ্টি কিংবা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার কারণ না হয়। পারস্পরিক সহনশীলতা, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।


