ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী

রাজনীতি
ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী
১২ আগস্ট ২০২৬

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী ‘ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে’ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও ইতিহাস থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ করতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে যান তিনি।

রিজভী বলেন, ‘একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’ তার অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন?’ এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, তার মৃত্যু ছিল ‘ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ’। তৎকালীন সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, খালেদা জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার হওয়ার পরও তাকে গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল এবং অসুস্থ অবস্থায় বন্দি রাখা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তাকে সন্তানের লাশ কোলে নিতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করা এবং জনগণের মধ্যে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কৌশল নিয়েছিল। এটিকে তিনি ‘অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসকের’ প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়াও সন্তানসহ বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে এই পরিবারের সম্পৃক্ততার কারণে তাদের ধ্বংস করতে শেখ হাসিনা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, সেখানে দাঁড়িপাল্লায় একাত্তরকে হালকা এবং জুলাইকে ভারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘ছোটলোকামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের পাশে না থেকে যারা বিরোধিতা করেছে, তারা এখন জুলাইয়ের আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে।

জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপি সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে একাধিকবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সবাইকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, এই ঘটনাও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।