আজ ১৫ আগস্ট, শেখ মুজিবের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী
আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল সেনাসদস্যের অভ্যুত্থানে শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে হত্যা করা হয়। একই রাতে তাঁর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলও নিহত হন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনসহ আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনে ব্যাপক প্রেরণা জোগায়। ভাষণটি পরবর্তীতে ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ কর্মসূচির স্বীকৃতিও পায়।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন রাষ্ট্রের অবস্থান সুদৃঢ় করার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তাঁর সরকার।
তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলে। আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
প্রতি বছর ১৫ আগস্ট দিনটি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা এবং ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের নানা দিক নতুন করে আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।


