অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
১৫ আগস্ট ২০২৬

অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে বেসরকারি শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার এক লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ পেতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষকের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অনলাইনেই পৌঁছাবে অর্থ

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরিজীবন শেষে নিজেদের প্রাপ্য অর্থ তুলতে শিক্ষকদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়েছে। এমনকি ঘুষ দেওয়ার মতো অনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, যারা নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তোলেন, তাদের নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে হয়রানির শিকার হওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতদিন বর্তমান সরকার দায়িত্বে থাকবে, ততদিন অবসর সুবিধার অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা হয়রানির মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রাপ্য অর্থ সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা চালু রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

দুই তহবিলের অর্থ সংকট

অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষকদের মাসিক চাঁদার পাশাপাশি সরকারও নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা দেয়। চাকরিজীবন শেষে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

তবে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের সময়ে অনিয়ম, অর্থের অপব্যবহার ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় দুটি তহবিলই আর্থিক সংকটে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, জাল ইন্ডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে তহবিলের অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসব তহবিল থেকে অর্থ পাচ্ছিলেন না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার উদ্যোগ স্মরণ

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুবিধার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করেন তারেক রহমান।

তিনি জানান, ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন।

অবসরেও শিক্ষকের দায়িত্ব শেষ নয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে সমাজের অন্য সব পেশার মানুষ তৈরি হন। চাকরি থেকে অবসর নিলেও একজন শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব শেষ হয় না।

তিনি বলেন, অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।