ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে ১ বিলিয়ন ডলার দেবে আইএসডিবি
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুলাইমান আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।
চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি স্বাক্ষর করেন।
বাড়বে তেল শোধনের সক্ষমতা
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক তেল শোধন সক্ষমতা আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন বাড়বে। ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশের মোট পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব।
জুনে অনুমোদন পায় অর্থায়ন
তিন দিনের সরকারি সফরে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আসেন আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুলাইমান আল জাসের। এর আগে গত জুনে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত আইএসডিবির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের ৩৬৭তম সভায় ইস্টার্ন রিফাইনারির এই মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হলো।
দীর্ঘদিনের প্রকল্পে গতি
১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শোধনাগারটির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। তবে অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ঝুলে ছিল।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবির চেয়ারম্যান। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুই পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


