জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

জাতীয়
জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎসের সন্ধান করছে সরকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের মতো পরিস্থিতিতে কোনো একটি জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে উৎসের বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি জানান, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন জ্বালানি উৎস নিয়ে আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহ এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

সৌরবিদ্যুতের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, চীন ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানিতে একাধিক উৎস নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আদলে নতুন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি সরকারি সেবাকে আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন কিংবা নানা সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করতে চায় না সরকার। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির ইতিবাচক দিকগুলোও আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা হবে।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি মোকাবিলা ও পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের মতো বৈশ্বিক বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

শামা ওবায়েদ বলেন, পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন আনতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য।