সংসদে বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নো ক্যাপাসিটি চার্জ; নো পাওয়ার, নো মানি
বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রের মালিকদের অর্থ দেওয়ার বিতর্কিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ব্যবস্থা থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন অনুমোদন পাওয়া তিনটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘নো পাওয়ার, নো মানি’ ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই অর্থ দেওয়া হবে, উৎপাদন না করলে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পাঁচ কেন্দ্র থেকে মিলবে ৫০০ মেগাওয়াট
সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্যাপাসিটি চার্জের চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়, কারণ এসব চুক্তি রাষ্ট্রের সঙ্গে করা হয়েছে। তবে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি সপ্তাহ থেকেই ওই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এসব বিদ্যুতের জন্য কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে না।
বড়পুকুরিয়ায় ৬২০ মেগাওয়াটের নতুন কেন্দ্র
বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে চায় না। দেশের নিজস্ব কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়ায় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর একটি বর্তমানে বন্ধ, অন্যটির উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে এবং আরেকটির জায়গায় নতুন কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেখানে দেশীয় কয়লা দিয়ে ৬২০ মেগাওয়াটের একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা কেন্দ্রটি সংস্কার করে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ধাপের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী ২০২১ সালের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন কমে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ওই প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অতি শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিডলাইন নির্মাণের বিষয়েও সরকারের সহায়তার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে গ্রিডলাইন নির্মাণ করতে না পারলে প্রয়োজনে সরকার অর্থায়ন করে তা নির্মাণ করবে।
উত্তরাধিকারসূত্রে সংকট পেয়েছে সরকার
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা এবং সংকটে পরিপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থার মতো বড় সমস্যাগুলো ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব নয়। সরকার পরিকল্পনা নিয়ে ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধান করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সময়ে জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কোথা থেকে গ্যাস আসবে, তার ব্যবস্থা না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও নির্মাণ করা হয়নি।
বিদেশি বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রাতারাতি বাতিল নয়
বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কয়েকটি চুক্তি নিয়েও সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ থাকলেও কোনো দেশের সঙ্গে করা চুক্তি রাতারাতি বাতিল করা যায় না।
তার ভাষ্য, চুক্তি বাতিল করা হলে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যেতে হতে পারে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যমান সংকট আরও বাড়বে এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হতে পারে বাংলাদেশ।
তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দায়িত্বশীলদের স্পষ্ট বক্তব্য চাইলেন ডেপুটি স্পিকার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জনগণের সামনে আরও স্পষ্টভাবে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিষয়টি একইভাবে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় না।
জনগণের সামনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


