অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকারকে বেশি ব্যর্থ বললেন চরমোনাই পীর

রাজনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকারকে বেশি ব্যর্থ বললেন চরমোনাই পীর
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চেয়েও দেশকে খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল, তবু আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। মনে হচ্ছে পাতি শৃগালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি আমরা।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

‘জামায়াত আর ইসলামী দল নয়’

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, দলটি তাদের লোগো থেকে ‘আকিমুদদ্বিন’ শব্দটি বাদ দিয়েছে। ফলে সেখানে ‘ইসলাম’ শব্দটিও আর নেই দাবি করে তিনি বলেন, এ কারণে জামায়াতকে ইসলামী দল বলা যায় না।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা উল্লেখ করেনি। একই সময়ে জামায়াতের আমিরও বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন না, বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ চালাবেন।

এসব বিষয় বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীকে আর ইসলামী দল বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।

তিনি বলেন, জামায়াত লংমার্চ করে ফিরে সংসদে গিয়ে দলের আমির বলেছেন, বিদ্যুৎ সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়। তাহলে এত তেল-গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ করার প্রয়োজন কেন হলো—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘এমন দ্বিমুখী আচরণ কেন?’

বিএনপিকে সতর্ক করলেন

বিএনপির সমালোচনা করে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, নির্বাচনের আগে দলটি ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রাখছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, সংসদে ইতোমধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না এলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।