রয়টার্সের প্রতিবেদন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব এখন বাংলাদেশে

জাতীয়
বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব এখন বাংলাদেশে
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হামের প্রাদুর্ভাব। মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম-সংশ্লিষ্ট প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলছে।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৯৯ জনের মৃত্যু হামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০০ জন। এ সময়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এ রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে তৈরি হওয়া ঘাটতি হামের এই বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। গত কয়েক বছরে টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু হামের টিকা থেকে বাদ পড়ে। ফলে জনসংখ্যার একটি অংশের মধ্যে রোগটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

একসময় বাংলাদেশে হামের টিকাদানের হার প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। এর ফলে দেশটি হাম নির্মূলের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কিন্তু টিকাদানে সাম্প্রতিক ঘাটতি সেই অগ্রগতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও টিকাদানের ঘাটতি পূরণ এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এর মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ছে। ফলে একই সময়ে দুটি সংক্রামক রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতাল ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং সংক্রমণের বিস্তার রোধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা জরুরি।