আশির দশকের ট্রেন্ডে সরকারও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম । ফাইল ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকে ফিরে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডেও যেন তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে সরকার যদি এই প্রবণতার সঙ্গে থাকতে চায়, সেটি যেন ইতিবাচকভাবে হয়—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, সবাই যেন আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে। এই সরকারকে দেখেও মনে হচ্ছে, তারাও যেন আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে। আশির দশকে তো এমন গ্যাস-বিদ্যুৎ ছিল না। মনে হচ্ছে সরকারও সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, পুরো পৃথিবী যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ কোনোভাবেই যেন পিছিয়ে না পড়ে—এটাই সবার প্রত্যাশা। বিশেষ করে এত বড় গণঅভ্যুত্থান, রক্তদান ও আত্মত্যাগের পর দেশের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হওয়া প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে সরকারের বিশেষ নীতি ও পরিকল্পনা থাকা উচিত।
দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি সংসদে একজন সংসদ সদস্য নিজ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। পরে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য নিজ নিজ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম দাবির জেলায় আগেই বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হয়েছে এবং শুধু উপাচার্য নিয়োগ বাকি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগের শাসনামলেও প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে দলীয় লোকদের চাকরি দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। কিন্তু শুধু একটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না।
গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ বলেন, এই সময়ে যেমন অনেক হতাশা ও না-পাওয়ার বেদনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অনেক আশাও। এই সময়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি সরকার কতটা বাস্তবায়ন করতে পারছে, তা জনগণ নিজেরাই বিচার করবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে না দেয় এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
আলোচনা সভায় এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


