জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করল হাদির ইনকিলাব মঞ্চ

রাজনীতি
জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করল হাদির ইনকিলাব মঞ্চ
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও দ্বিজাতিতত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে তার একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করে এ স্মরণ জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রকাশিত ছবিতে জিন্নাহর প্রতিকৃতির নিচে তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে—২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮।

ছবিটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় ইনকিলাব মঞ্চ জিন্নাহকে ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তাকে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা এবং দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পোস্টে বলা হয়, ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।’

পাকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহর ভূমিকা নিয়ে রয়েছে গভীর বিতর্ক। ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান ও কার্জন হলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নেন। তার এই অবস্থানের প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার এই অবস্থান বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তী সময়ে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে এ ধরনের স্মরণমূলক পোস্ট এর আগেও দেখা গেছে। এর মাত্র ছয় দিন আগে সংগঠনটি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখকে নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে তাকে ‘অশেষ দোয়া ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করা হয়।

ফলে জিন্নাহর মতো বিতর্কিত ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।