শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বাতিল

রাজনীতি
শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বাতিল
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানীতে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকে অংশ নিতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা সংবাদমাধ্যম ডেইলি ওয়াদাকে হোয়াটসঅ্যাপে বৈঠক বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে কী কারণে বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত আরও দুজনের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে বৈঠক বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে ডেইলি ওয়াদা। তাদের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং অন্যজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত একজন কর্মকর্তা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে যে বাসভবনে অবস্থান করছেন, সেখানেই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বৈঠকে অংশ নিতে এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বৈঠকে দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি শেখ হাসিনার আগে ঘোষিত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনাও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

এদিকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। ফোরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) জানিয়েছিল, দিল্লি পুলিশ ওই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পুলিশ নথিতে ‘কিছু বিতর্কের’ কারণে অনুষ্ঠানটির অনুমোদন না দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরে দাবি করেন, এফসিসির ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুষ্ঠানটি দল আয়োজন বা পৃষ্ঠপোষকতা করেনি এবং কোনো নেতা সেখানে অংশ নিলে তিনি ব্যক্তিগত সক্ষমতায় অংশ নিয়েছেন।

এর আগে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির একই ক্লাবে শেখ হাসিনার সরাসরি গণমাধ্যম সংলাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনাকে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা ‘ক্ষুব্ধ’। এ বিষয়ে আগেই ভারতের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও জানানো হয়।

পরে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেও ভারত সরকার একমত নয় বলে জানানো হয়।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও আইনি বিভিন্ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠক বাতিলের খবর সামনে এলো।