জাতিসংঘ অধিবেশন
ইরান নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে শিগগিরই একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সামনে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যাওয়ার পথ যেমন খোলা আছে, তেমনি সমঝোতা না হলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্পও রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরান পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়ে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য এমনকি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে সমঝোতা না হলে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করার পথও বেছে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর এই বক্তব্যে ইরান নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে। তাঁর ধারণা, তেহরান হয়তো মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে নির্বাচনের সঙ্গে ইরান নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী নন; রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং তিনি দলটির প্রার্থীদের সহযোগিতা করবেন।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প এর আগে ও জাতিসংঘের ভাষণেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও প্রশংসা করেন। ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হওয়ায় তিনি পরিষদের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে তিনি যে ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন, তার নিন্দায় নিরাপত্তা পরিষদ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, একইভাবে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও সদস্য দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সামরিক পদক্ষেপ—দুই সম্ভাবনাই উঠে এসেছে। একদিকে তিনি নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে চুক্তি না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ট্রাম্প ইরান নিয়ে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় থাকার কথা রয়টার্স জানিয়েছিল। তবে সে সময় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফলে জাতিসংঘে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সমঝোতা ও সামরিক চাপ—দুই পথই খোলা রাখার বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।


