মক্কাসহ সৌদির একাধিক অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা, কয়েক মিনিট পরই প্রত্যাহার

মক্কাসহ সৌদির একাধিক অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা, কয়েক মিনিট পরই প্রত্যাহার
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কাসহ সৌদি আরবের একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করে। তবে সতর্কতা জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হয়।

সৌদি আরবের জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে এ ধরনের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

সিভিল ডিফেন্সের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে মক্কা নগরীতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও পৃথক সতর্কতা জারি করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে সতর্কতা জারির কয়েক মিনিট পরই সংশ্লিষ্ট বার্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সতর্কতা জারির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে এই সতর্কতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করে, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে হুথিরা ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুথিদের ছোড়া ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই হুথিরা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদি রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ায় ইয়েমেনও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

চলতি মাসের শুরুতে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মানদেব প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে চলে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও হুথিরা সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়। এর পর ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে এবং শুরু হয় ধারাবাহিক হামলা।

পরবর্তীতে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সৌদির তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার ফলে সৌদি আরবসহ পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারের অন্যতম শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।