ভারতে থমকে আছে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির বার্ষিক কার্যক্রম, অনিশ্চয়তায় জেন-জি

ভারতে থমকে আছে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির বার্ষিক কার্যক্রম, অনিশ্চয়তায় জেন-জি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে ১৮ বছর পূর্ণ করা নতুন ভোটারদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বার্ষিক হালনাগাদ কার্যক্রম ২০২৬-২৭ সালেও শুরু হয়নি। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে নির্ধারিত মে-জুন সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ‘অ্যানুয়াল সামারি রিভিশন’ বা বার্ষিক ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর দেশজুড়ে নিয়মিত এই হালনাগাদ কার্যক্রম আর পুনরায় শুরু হয়নি। ২০২৫ সালে বিহারে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী নিয়মিত সামারি রিভিশন পুনরায় চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন চললেও প্রতিবছর ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানো নাগরিকদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করতে নিয়মিত aহালনাগাদ কার্যক্রম প্রয়োজন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ভারতে সাধারণত ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতার তারিখ ধরে বার্ষিক সামারি রিভিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই শেষে সাধারণত জানুয়ারির শুরুতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের তথ্যের ভুল, অসংগতি ও বিভিন্ন ধরনের অমিলও যাচাই করা হয়।

তবে ২০২১ সালের আইনি সংশোধনের পর ১ জানুয়ারির পাশাপাশি ১ এপ্রিল, ১ জুলাই ও ১ অক্টোবর—এই চারটি যোগ্যতার তারিখ কার্যকর রয়েছে। ফলে কোনো নাগরিক বছরের এসব তারিখের যেকোনো একটিতে ১৮ বছর পূর্ণ করলে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আগাম আবেদন করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন পরবর্তী প্রাসঙ্গিক ত্রৈমাসিকে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

বার্ষিক হালনাগাদ কার্যক্রম আটকে থাকায় নতুন প্রজন্মের ভোটারদের তালিকাভুক্তির সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালে যেসব রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেসব রাজ্যে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে ভোটার তালিকা সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। কমিশন অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকার বিষয়টি অস্বীকার না করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল বলে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এই মতপার্থক্যের প্রভাব কমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পড়েছে। প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচন কমিশনারের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদনও আটকে রয়েছে বলে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে।