মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে আইআরজিসির খোলা চিঠি, ‘রাজনীতিকদের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিন’
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ২৫ পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের নিজেদের সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের’ হাত থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাননীতি, চলমান যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে আইআরজিসি।
চিঠিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে পরিবর্তন প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে ইরানকে চলমান যুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে দাবি করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির বক্তব্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
তবে আইআরজিসি স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনা এবং কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, এসব ক্ষয়ক্ষতি হলেও হামলার মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন নাগরিকেরা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্যও করেন এবং মার্কিন নাগরিকদের নিজেদের নেতৃত্ব ও নীতির বিষয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন ট্রাম্প। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। আইআরজিসি দাবি করছে, প্রণালিটির ওপর ইরানের প্রভাব এখনো রয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক কেপলার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে কেপলারের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে প্রণালিটি দিয়ে তেল রপ্তানি প্রায় ১ কোটি ব্যারেল দৈনিক পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা যুদ্ধের আগের মাত্রার প্রায় অর্ধেক।
অন্য একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কেপলার-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ ও বিকল্প রুট মিলিয়ে তেল প্রবাহ প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল দৈনিক হয়েছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব মাত্রার প্রায় ৭৭ শতাংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করা, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে।
আইআরজিসির এই খোলা চিঠি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ বাকি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।


