ভোট চলাকালে আটক বিধায়ক হুমায়ুন কবির

ভোট চলাকালে আটক বিধায়ক হুমায়ুন কবির
৬ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা ও আসামের একটি লোকসভা আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে ভোট শুরুর পরই পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রেজিনগরে ভোটের দিন সকালে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে আটক করেছে পুলিশ।

সকালে নিজের গ্রামের শক্তিপুরের একটি বুথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দেন হুমায়ুন কবির। ভোট দেওয়ার পর তিনি নির্বাচন লুটের অভিযোগ তুলে রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে যান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পুলিশের অভিযোগ, ভোট চলাকালে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও উত্তেজনা ছড়ানোর উসকানি দিচ্ছিলেন হুমায়ুন। একই সঙ্গে ভোটারদের প্রভাবিত করারও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এরপর রেজিনগর থানার ওসি অঞ্জন বর্মন বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। হুমায়ুন সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, নাকি আটক করা হচ্ছে, আমি কিছুই জানি না।’

পরে বেলডাঙার মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা আনন্দজিৎ হোড় জানান, আইন ভঙ্গের অভিযোগে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে নির্বাচন কমিশন জেলা পুলিশের কাছে জরুরি প্রতিবেদন চেয়েছে।

নন্দীগ্রামেও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রেও ভোটের শুরুতে উত্তেজনার অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান ভোট দেওয়ার পর অভিযোগ করেন, আগের রাত থেকে তাণ্ডব চলছে এবং তাদের পোলিং এজেন্টদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নন্দীগ্রামে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪১৯ জন। বিজেপির হাসিরানী রথ, কংগ্রেসের মিলন প্রধান, সিপিআইয়ের শান্তি গোপাল গিরি, আইএসএফের আলী মহম্মদ সাবে মিরাজ খান এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের মহম্মদ এতেশামুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৬ জন। এখানে বিজেপির শাঁখারভ সরকার, তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী, এজেইউপির গোলাম নবী আজাদ, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের সফিউজ্জামান শেখ, কংগ্রেসের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি এবং সিপিআইএমের সৈয়দ আসাদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই তাদের প্রার্থী জয়ী হবেন। নন্দীগ্রামে আগের নির্বাচনের তুলনায় বড় ব্যবধানে জয়ের আশাবাদও প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও তিন বিধানসভা ও এক লোকসভা আসনে ভোট

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মাদুরান্তাকম ও ধারাপুরম এবং পুদুচেরির থাট্টানচাভাদি বিধানসভা আসনেও উপনির্বাচন হচ্ছে। একই দিনে আসামের নগাঁও লোকসভা আসনেও ভোটগ্রহণ চলছে।

সব কটি আসনের ফল আগামী ৯ অক্টোবর একযোগে ঘোষণা করা হবে।