ইরান যুদ্ধ ‘ভালোভাবে’ শেষ করার কথা ভাবছেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কীভাবে শেষ করা হবে, তা নিয়ে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সংঘাত ‘ভালোভাবে’ শেষ হবে, নাকি কঠোর উপায়ে—তা শিগগিরই জানা যাবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে হবে। তবে এটি ভালোভাবে শেষ করা হবে, নাকি ‘ভালো নয় এমন উপায়ে’—এখন সেটিই প্রশ্ন। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানে বর্তমানে কারা দেশ পরিচালনা করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এটিই তার সবচেয়ে বড় সমস্যা। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দেশটির নেতৃত্বের অনেকেই এখন আর নেই।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, অবশিষ্ট সক্ষমতাও শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে এবং সেগুলোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জানা রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
এ সময় বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা নিয়মিত তাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান। তবে জবাবে তিনি তাদের কাছে জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের ব্যয় কখন তারা বহন করবেন।
সংঘাতের পটভূমি
তাসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়, যেখানে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল।
তবে ৮ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবার বড় ধরনের হামলা শুরু করে বলে তাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিদ্যমান সমঝোতা ইরান লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা কমিয়ে নিষেধাজ্ঞাসহ অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান নিয়ে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


