নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
১৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; প্রত্যেকেরই নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। শিশুরা শুধু নিজ এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে তাদের যাতায়াত করতে হয়। তাই পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আন্তরিকতা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা

ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা এক দিনে কিংবা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা যাবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, তবে চেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় গেলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে সমস্যা শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নিলে নগরীর চিত্র বদলানো সম্ভব।

লন্ডনের উদাহরণ দিয়ে আশাবাদ

নগর পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে শহরটির পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে শুধু আফসোস না করে নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ওই কর্মকর্তা সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকার পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’

নগরীর সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানান তিনি। বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজের দায়িত্ব নিয়েও আত্মসমালোচনার আহ্বান

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু অন্যের সমালোচনা না করে নিজেদের কাজের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেকে নিজের কাজের মূল্যায়ন করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন

এর আগে নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও খোঁজখবর নেন তিনি।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তারেক রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।