সংসদীয় কমিটির কড়া হুঁশিয়ারি
বারবার কেন প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি, সংশ্লিষ্টদের কাছে জবাব তলব
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের দুর্বলতায় রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেয় কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সময় উত্থাপিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, খুচরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিভিন্ন চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দায় নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
অডিট আপত্তি ও আর্থিক অনিয়মের হিসাব চেয়েছে কমিটি
সরকারি তহবিলের অপচয় বন্ধ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনাসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
কমিটি জানতে চেয়েছে, এ পর্যন্ত উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত অর্থ এখনো অনাদায়ি রয়েছে এবং অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি নিষ্পত্তি হওয়া ও অসম্পূর্ণ নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়ে দাপ্তরিক প্রমাণসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
সংসদীয় কমিটি আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তৃত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।
সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেবিচককে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেবিচক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।


