জিলহজের প্রথম দশক: পুণ্য লাভের সুবর্ণ সময়
পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দশককে ইসলামে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দশ দিনকে ঘিরে দেশের শীর্ষ আলেমরা মুসলমানদের বেশি বেশি নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দিচ্ছেন। নামাজ, রোজা, সদকা এবং হজ—ইসলামের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতই এ দশকে একত্রে পালন করা সম্ভব হয়, যা বছরের অন্য সময়ে ঘটে না।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এ সময়ের মধ্যে কোরবানি, হজ, আরাফার রোজা ও আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে অশেষ সওয়াব অর্জন করা যায়। অনেকেই রোজা, নফল ইবাদত এবং কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হচ্ছেন।
ধর্মবিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দশ দিনকে কোরআনে আল্লাহ ‘মালুমাত দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফজরের সূরায় আল্লাহ বলেন— “শপথ ভোরবেলার, শপথ দশ রাতের” (সূরা ফাজর, আয়াত ১-৩)। এ দশ রাত নিয়ে হাদিসে এসেছে, ‘‘এই দশ দিনে করা আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়’’ (সহিহ বুখারি: ৯৬৯)।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র জানান, “আমরা এই দশকে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব বোঝাতে মসজিদ ও গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছি। আরাফার দিন রোজা রাখার পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যায় জিকির এবং দোয়া করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
হজ ও কোরবানি নিয়েও প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে যাচ্ছেন। আর দেশের বিভিন্ন পশুরহাটে কোরবানির প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ইসলামি স্কলারদের মতে, জিলহজের প্রথম দশ দিন আত্মশুদ্ধি ও ইমান পুনর্গঠনের একটি অনন্য সুযোগ। মুসলিম উম্মাহর উচিত এই সময়টিকে আত্মোপলব্ধি ও নেক আমলে কাটানো।
ইসলামের এ পুণ্যময় সময় যেন শুধু উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের চর্চার সুযোগ হয়—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন ধর্মপ্রাণদের


